শেয়ার বাজার কী? শেয়ার মার্কেট থেকে কিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন | What Is Share Market In Bengali

আপনি কি জানেন শেয়ার বাজার সৃষ্টি কিভাবে হয়। শেয়ার বাজার কী? (What is share market in bengali) ও কিভাবে Share bazar কাজ করে। Share Market থেকে কিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন, শেয়ার বাজারের A to Z সম্পূর্ণ তথ্য সহজ ভাবে আলোচনা করব এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে।

Table of Contents

শেয়ার বাজারের ইতিহাস

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাহাজের মাধ্যমে মশলাপাতি, সোনা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির কারবার করত। এরপরে, কিছু সাল বাদে অর্থের অভাবে বড়ো বড়ো ব্যবসাদারদের সামনে প্রস্তাব জারি করে।

Dutch East India Company তে অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য এর বদলে তাদের কিছু পরিমাণ জাহাজের অংশীদারি দেওয়া হবে যখন বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজগুলি মুনাফা কামিয়ে আসবে তখন তাদের অংশীদারি হিসেবে তারা তাদের টাকা পাবেন। একের পর এক ব্যবসাদারা বিনিয়োগ করে বহু মুনাফা লাভ করে।

এই থেকেই অজান্তে Stock Market বাংলাতে শেয়ার বাজার আবিষ্কার হয়। এইসব লেনদেনের কাজটি করা হচ্ছিল নেদারল্যান্ড দেশের আমস্টারডাম শহরে অবস্থিত একে আমস্টারডাম স্টক এক্সচেঞ্জ নামে ডাকা হয়।

ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাস

বর্তমান ভারতবর্ষের শেয়ার মার্কেট দুইটি ভাগে বিভক্ত রয়েছে যেমন :

এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন স্টক এক্সচেঞ্জ BSE ভারতবর্ষের মুম্বাই শহরে অবস্থিত বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ নামে 1875 সালে প্রতিষ্টা করেন প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ। প্রাথমিক অবস্থায় দালাল স্ট্রিট এ বট গাছের নিচে কাজ কর্ম গুলিকে করা হতো পরে সরকারের অধিগ্রহণের ফলে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপিত করা হয়।

২৩ বছর বয়সে শেয়ার মার্কেটে টাকা লাগিয়ে ১০০ কোটি টাকার মালিক


১৯৯২ সালে NSE স্থাপন করা হয় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ SEBI -র তত্ত্বাবধানে এক্সচেঞ্জটি পরিচালিত হয়।
SEBI এর পুরো নাম সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া

বর্তমানে ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ BSE ও NSE এর কাজ কর্ম ও বাজার গুলিকে SEBI -র আন্ডারে দেখাশোনা করা হয়।

শেয়ার মার্কেট কি ? Share Market Ki in Bengali

স্টক মার্কেট = শেয়ার বাজার = ইক্যুইটি মার্কেট এই তিনটির মানে একই। বিশ্বের প্রায় সব দেশে গুলির তাদের নিজস্ব স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে এখানে কোম্পানির শেয়ার কে – কেনা বেচা এবং ট্রেডিং করা হয়।

কোন কোম্পানির শেয়ার কিনলে আপনি সেই কোম্পানির কিছু অংশের মালিক হবেন। কোম্পানির যদি লাভ হয় তাহলে আপনাকে লাভের কিছু অংশ ভাগ দেওয়া হবে, এবং বিপরীতে কোম্পানির ক্ষতি হয়ে পরে তাহলে আপনাকে লোকসানের ভাড় কে মেনে নিতে হবে।

ছোট্ট একটা উদাহরণের মাধ্যমে জেনে নিন : A একজন ব্যক্তি তার কাছে ৫০০০ টাকা আছে ব্যবসা করার জন্য আরো ৫০০০ হাজার টাকার প্রয়োজন তার বন্ধু B এর কাছে টাকা ধার নেয়।
A ও B মিলে ৫০% এবং ৫০% করে কোম্পানির শেয়ার কে ভাগ করে নেয়। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা করলে লাভের অংশ দুজনে সমান ভাবে ভাগ পাবে।

এই পদ্ধতিটি কে বড় ভাবে শেয়ার মার্কেটে কাজ করে। সেখানে কোন বন্ধুর কাছে ধার না নিয়ে বিশ্বের লোকে আপনার কোম্পানির শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করে।

স্টক এক্সচেঞ্জ কি | What Is Stock Exchange In Bengali

শেয়ার মার্কেট এর সম্বন্ধে যাদের জ্ঞান বা জড়িত আছেন তারা এই কথাটি শুনে থাকবেন স্টক এক্সচেঞ্জ এমন একটি জায়গা যেখানে শেয়ার বাজারের তালিকায় থাকা কোম্পানী গুলির শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়।

শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে

অনেক সহজ ভাবে ছোট্ট উপায়ে শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে ধাপে-ধাপে তোমাদের কে জানাবো যেন একটি ছোট্ট ছেলেও যার শেয়ার মার্কেট এর সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলেও যেন বুঝতে পারে।

  • 1. কোম্পানিকে শেয়ার বাজারের লিস্ট করার জন্য আইপিও লঞ্চ করা হয়।
  • শেয়ার বাজারে লিস্ট হওয়ার পর ইনভেস্টরা শেয়ার কে কেনাবেচা ও ট্রেডিং করে থেকে।
  • আগের সময়ে এই প্রক্রিয়ায়টি নির্দিষ্ট স্থানে করা হতো। এখন ইন্টারনেট আসার ফলে বাড়িতে বসে থার্ড -পার্টি অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ইনভেস্ট করতে পারেন শেয়ার গুলিকে আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট জমা করে দেওয়া হয়।
  • . আপনি কোন শেয়ার বিক্রি বা কিনতে চাইলে করতে পারবেন না। এরজন্য আপনার শেয়ারে BUY অর্ডার দেওয়ার আগে দেখতে হবে শেয়ারে SELL করার জন্য বিক্রেতা আছে কিনা নইলে শেয়ার কিনতে পারবেন না।
  • যদি বিক্রি করতে চান তাহলে শেয়ারটি BUY করার জন্য খদ্দের থাকতে হবে কেনার লোক যদি না থাকে তাহলে শেয়ারটি কেউ নেবে না।
  • অনলাইন স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাপ্লিকেশন গুলির মাধ্যমে দেখতে পাবেন। শেয়ার গুলির নিচে দেখতে পাবেন ক্রেতা বিক্রেতার দরদামর করে থাকে।
Bid price Ask price
Buyer – ক্রেতা কে চিহ্নিত করে Seller – বিক্রেতা কে বোঝানো হয়
শেয়ার বাজার কী?
  • শেয়ারের ডিমান্ড এবং সাপ্লাই এর ভূমিকা অনেক বড়ো ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের ভারসাম্য যদি না থাকলে কি হবে জেনে নিন।
  1. বাজারে Buyer আছে , Seller নেয় তাহলে শেয়ারটির মূল্য প্রত্যেক দিন ৫ পার্সেন্ট করে বাড়বে। .
  2. বিপরীতে, বাজারে শেয়ারটির Seller এসে পড়লে কোন Buy-র যদি না থাকে , এই অবস্থায় শেয়ারটির মূল্য প্রত্যেক দিন ৫% করে কমতে থাকবে। এক মাসের মধ্যেই আপনার ব্যালেন্স জিরো হতে পারে এই ঘটনাটি কম শেয়ারে হয়ে থাকে।
  • এই সমস্ত লেনদেন কে আপনি আপনার শেয়ার মার্কেটের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।
  • এর সমস্ত ডেটার হিসাবপত্র গুলি কম্পিউটার অ্যালগরিদম এর মাধ্যমে অনেক সহজে হয়ে থাকে। এই সমস্ত ডেটা গুলিকে গভর্মেন্টের সার্ভারে সুরক্ষিত ভাবে স্টোর করে রাখা হয়।

Upper Circuit এবং Lower Circuit কি?

লক্ষ্য করবেন শেয়ারের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট Price গিয়ে আটকে যায় ফলে শেয়ার টিকে Buy ও Sell করতে পারিনা।কোম্পানি গুলির ভালো এবং খারাপ খবর এর ফলে শেয়ারটির প্রাইস একদম বেড়া যায় অথবা কমতে থাকে।

ইনভেস্টরদের ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য শেয়ারে সার্কিট লিমিট এর আবিষ্কার হয়। ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ এ ২% ৫% ও ১০% এবং ২০% পর্যন্ত Circuit Limit রয়েছে। Derivatives Stock যে স্টক এর মধ্যে Future ও options করা হয়।

ইনভেস্টরদের ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য শেয়ারে সার্কিট লিমিট এর আবিষ্কার হয়। ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জ এ ২% ৫% ও ১০% এবং ২০% পর্যন্ত Circuit Limit রয়েছে। Derivatives Stock যে স্টক এর মধ্যে Future ও options করা হয় সেই স্টকে কোন সার্কিট লিমিট থাকে না।

উদাহরণ : ABC কোম্পানির স্টক প্রাইস ১০০ টাকা, ৫% সার্কিট লিমিট রয়েছে। এই অবস্থায় শেয়ারটির মূল্য ১০৫ টাকা হলে ট্রেডিং বন্ধ হয়ে যাবে বলা হবে Upper Circuit লেগেছে এবং স্টকটির মূল্য ৯৫ টাকায় পৌঁছালে Lower circuit লেগেছে ফলে ট্রেডিং বন্ধ করা হবে। একটি সার্কিট লিমিটের মধ্যেই স্টক ট্রেডিং করে থাকে।

প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি মার্কেট কী?

চলুন তাহলে আলোচনা কারাযাক প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি মার্কেট কী?

প্রাইমারি মার্কেট কি ?

যেখানে কোম্পানি তাদের শেয়ার গুলিকে বিক্রি করার আগে কোম্পানি তাদের শেয়ার কত দামে বিক্রি করবে ও শেয়ারের মূল্য ধার্য করা হয়। কোম্পানি তাদের শেয়ার কে বাড়িয়ে চারিয়ে বসাতে পারে না গভর্মেন্টের কিছু আইন আছে। কোম্পানির Value ও Demand ক্যালকুলেশন করে এবং ইনভেস্টররা কত টাকায় শেয়ার কিনতে আগ্রহী তার উপর নির্ভর করে কোম্পানির শেয়ারের মূল ধার্য করা হয়।

যে কোম্পানির শেয়ার ভ্যালু ইকুয়াল হয়ে থাকে। যদি কোম্পানির ২ লক্ষ ভ্যালু হয় তাহলে কম্পানি ১ টাকার ২ লক্ষটি শেয়ার তৈরি করতে পারে অথবা ১০ টাকার ২০ হাজার টি শেয়ার তৈরি করতে পারে, এটা কম্পানির উপর নির্ভর করে।

কোন কোম্পানি যখন শেয়ার মার্কেটে শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানির প্রোমোটাররা ৫০ শতাংশর অধিক শেয়ার নিজেরা হোল্ড করে রাখে। যদি কোম্পানি তার পুরো শেয়ার গুলি কে রিটেল ইনভেস্টরদের বিক্রি করে ফেলে তাহলে যার কাছে ৫০ শতাংশ মতো শেয়ার থাকেবে কোম্পানির সিদ্ধান্ত গুলি সে নিতে পারবে বা তার কাছে কন্ট্রোলে চলে আসবে।

কোম্পানির প্রোমোটাররা চায়না যে অন্য কারোর হাতে কোম্পানির সিদ্ধান্ত গুলি নিতে পারুক তার জন্য 50% বেশি শেয়ারকে নিজেদের কাছে রেখে দেয়।

সেকেন্ডারি মার্কেট কি ?

যে ইনভেস্টর গুলি কোম্পানি থেকে শেয়ার গুলিকে কিনে ছিলেন সেই শেয়ার গুলি অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারে। প্রাইমারি মার্কেটে কোম্পানি তার শেয়ার গুলির দাম ঠিক করতো |

কিন্তু এখানে ইনভেস্টররা নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা অথবা ট্রেডিং করে থাকে এর ফলে শেয়ারের মূল্য উপর নীচে হয়ে থাকে। শেয়ারের মূল্যের উপর কোম্পানির কিছু করার থাকে না এটা পুরো পুরি নির্ভর করে ডিমান্ড এবং সাপ্লাই এর ভিক্তিতে।

সেনসেক্স এবং নিফটি কি?

বর্তমানে ভারতের শেয়ার মার্কেট কি অবস্থা চলছে, শেয়ারবাজারে প্রত্যেকটি স্টক গুলিকে খুঁটিয়ে না দেখে ভারতের TOP কোম্পানি গুলিকে নিয়ে তৈরি সেনসেক্স ও নিফটি -র গ্রাফ কে দেখে বাজারের অবস্থা বুঝে নিতে পারবেন।

সেনসেক্স কি ? What is Sensex

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এর SENSEX এর পুরো নাম সেনসিটিভিটি ইন্ডেক্স এর মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড়ো ৩০ টি কোম্পানির মূল্য হিসাব করে তৈরি গ্রাফ টির মাধ্যমে SENSEX এর বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে।

নিফটি কি ? What is Nifty

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এর তালিকায় ভারতের সবচেয়ে বড় ৫০ টি কোম্পানি গুলি কে নিয়ে তৈরি এই গ্রাফটি দেখে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থাকে অনুমান করা যায়।

আইপিও কি ? What is IPO

সর্ব প্রথম যখন কোন কোম্পানি পাবলিককে তার শেয়ার কেনার জন্য অফার দেয় বা শেয়ার মার্কেটে লিস্ট হয় এবং সাধারণ জনগনরা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কিনতে পারে তাকে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং ছোট ভাবে IPO বলা হয়।
যখন কোন ব্যবসাদার তার প্রাইভেট কোম্পানির আইপিও লঞ্চ করে তাহলে কোম্পানিটি পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হয়। সমস্ত লেনদেনের হিসাবপত্র গুলিকে সাধারণ জনগণরা দেখতে পারেন।


আপনি যদি শেয়ার মার্কেটে আপনার কোম্পানিকে লিস্ট করতে চান এর জন্য ফাস্ট গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির Financial রিপোর্ট গুলি কে ভালো করে খতিয়ে দেখা হয়। পঞ্চাশটির মতোন আপনার শেয়ার হোল্ডার থাকা প্রয়োজন এবং এই পক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় তিন বছরের সময় লাগতে পারে।


অতীতে ইস্ট ইন্ডিয়া যুগে যে কেউ তার আইপিও লঞ্চ করে সাধারণ মানুষ কে বোকা বানাতে পারতো বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটিকে অনেক জটিল ও দীর্ঘ সময়ের করা হয়েছে।

ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ এ অনেক বড় বড় জালিয়াতি করা হয়েছে ও খুচরা ইনভেস্টররা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারপর থেকে ভারতীয় স্টকএক্সচেঞ্জ তার নিয়ম কানুন গুলিকে কঠিন ও পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই সবের দায়িত্বের ভার পালন করে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া ( SEBI ) নিষ্কাশন করে। কোন কোম্পানি গুলিকে লিস্ট করা হচ্ছে সঠিক পদ্ধতিতে কাজটি করা হচ্ছে কিনা। কোন শেয়ারের ডিমান্ট যদি না থাকে SEBI সেই শেয়ার টিকে মার্কেট থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

কিভাবে শেয়ার কিনবেন | How to Buy Shares in India

প্রাচীন যুগের কোন বন্দর গুলিতে অথবা নির্দিষ্ট কোন জায়গায় শেয়ার গুলিকে বিক্রি ও কেনা হতো বর্তমানে ইন্টারনেট আসার ফলে আপনি বাড়িতে বসে মোবাইল অথবা কম্পিউটারের মাধ্যমে শেয়ার মার্কেটে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন এর জন্য আপনার তিনটি জিনিসের প্রয়োজন। যেমন:

  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
  • ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট
  • ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট

1. ব্যাংক একাউন্ট : আপনি শেয়ার কেনার জন্য টাকার দরকার আপনার ব্যাংক একাউন্টে নেট ব্যাঙ্কিং এর সুবিধা চালু থাকে যেন।

2. শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এ ছাড়া শেয়ার কিনতে ও বিক্রি করতে পারবেন না। এছাড়া আপনার ১৮ বছর বয়স হতে হবে সাথে দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র হিসাবে আধার কার্ড ,প্যান কার্ড থাকলেই Demat account খুলতে পারবেন।

কিছু কিছু ব্যাংক ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ও ডিমান্ড অ্যাকাউন্ট এই তিনটির পরিষেবা দিয়ে থাকে।

3. ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট স্টক মার্কেটে কোন শেয়ারে অথবা NIFTY ও BANK NIFTY ফিউচারে ( F&O ) ট্রেডিং করার জন্য প্রয়োজন।

এইসব ছাড়া রিটেল ইনভেস্টরদের প্রয়োজন একটি ব্রোকার এর যার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা শেয়ারের লেনদেন এর হিসাবপত্র গুলিকে আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টটে জমা করে। আপনার ব্রোকার ব্যাংক হতে পারে অথবা কোন অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন বা APP হতে পারে।

এই ব্রোকাররা সঠিক ভাবে ট্রানজাকশনের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ করলে তারা কিছু পার্সেন্টেজ চার্জ নেয় বর্তমানে কিছু ব্রোকার ০% ব্রোকারেজ চার্জে অনেক কম চার্জে শেয়ারে ইনভেস্টট্রেডিং করতে দেয়। যেমন :

  • Groww
  • Angel One
  • INDmoney

ইনভেস্ট ও ট্রেডিং কি?

উপরে দিকে আমরা জানলাম যে কিভাবে শেয়ার মার্কেটে টাকা লাগবে। চলুন এখন জানি যে ইনভেস্ট ও ট্রেডিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?

ইনভেস্ট কি ? What is Invest

ইনভেস্ট যখন কোন ব্যক্তি শেয়ার গুলিকে কিনে দীর্ঘ সময়ের উদ্দেশ্যে হোল্ড করে রাখে তাকে ইনভেস্টমেন্ট বলা হয়। নতুন ইনভেস্টরদের শেয়ার মার্কেটে প্রথমে ইনভেস্ট করতে বলা হয়।

ট্রেডিং কি ? What is Trading

ট্রেডিং শেয়ার মার্কেটের খুবই বিপদজনক মনে করা হয়। আর নতুন ইনভেস্টরদের এর থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। কারণ ট্রেডিং দিনের দিন বা নিয়মিত সময়ের মধ্যে শেয়ার গুলিকে Sell করতে হয় অথবা অটোমেটিই শেয়ার গুলি Sell হয়ে যায়। একদিনের মধ্যে আপনার ব্যালেন্স শুন্য হতে পারে।

এই কাজটিকে কেবল পুরোনো বড়ো বড়ো ইনভেস্টরা যাদের Share মার্কেটের বিষয়ে গভীর জ্ঞান আছে বা প্রত্যেক দিনই স্টক মার্কেটের খবররা খবর গুলি পেয়ে থাকে যা সাধারণ লোকের পক্ষে জানা খুবই কঠিন। ট্রেডিং প্রক্রিয়াটি কি ভাবে কাজ করে। যেমন :-

A ও B এর মধ্যে তর্ক হচ্ছে যে কোনো একটি শেয়ার কে নিয়ে যে শেয়ারের মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়বে কি – কমবে দুজনে = দশ +দশ করে টাকা লাগায়। A ও B এর মধ্যে যার অনুমানটি ঠিক হবে একজনই পুরো টাকাটাই সে পাবে। বড়ো বড়ো ইনভেস্টররাই ট্রেডিং এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে থাকে।

শেয়ার মার্কেট কি বিপদজনক ?

কিছু কিছু ব্যক্তি শেয়ার বাজারকে জুয়া বলে থাকে সত্যিই কি শেয়ার মার্কেট জুয়া হ্যাঁ, সত্যিই যদি আপনি কোম্পানি গুলির ফান্ডামেন্টাল এবং কোম্পানিটি কি কাজ করে এইসব তথ্য গুলো না জেনেই কারোর কথায় বা টিপস এর খবরের ভিত্তিতে ইনভেস্টমেন্ট করে থাকেন আপনি জানেনই না যে কোম্পানির ভবিষ্যতের ক্রিয়া-কলাপ কি। এই ভাবে শেয়ার বাজারে ইনভেস্টমেন্ট করলে তাহলে, আপনার জন্য শেয়ার বাজার জুয়া অথবা বিপদজনক হতে পারে।

শেয়ার বাজারে কি বিনিয়োগ করা দরকার ?

আমাদের শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করা প্রয়োজন শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করা মানে আমরা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কাজে টাকা কে ইনভেস্ট করছি। প্রাথমিক অবথায় আপনি ইনভেস্টমেন্ট থেকেই শুরু করুন। যে কোম্পানি গুলির ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট ভালো বড় বড় কোম্পানি গুলোর শেয়ারে অংশীদারি নিতে পারেন।

শেয়ার বাজার আপনার যদি বিপজ্জনক মনে হয় তাহলে আপনি NIFTY ও SENSEX এর তালিকার কোম্পানি গুলোতে আপনার ইনভেসমেন্ট এর অর্থ কে প্রত্যেকটি শেয়ারে ভাগ করে কিছু কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।

NIFTY এবং SENSEX এর গ্রাফ দেখলে বুঝতে পারবেন ভারতের অর্থনীতি কোথা থেকে কোথায় পৌঁছেগেছে বর্তমানে ভারতের অর্থিনীতিতে কত বৃদ্ধি ঘটেছে। আপনি যদি ১০ থেকে ২০ বছর আগে বিনিয়োগ করে থাকলে আজকে কত টাকা রিটার্ন পেতেন।


আপনি যদি শেয়ার মার্কেট বুঝতে না পারেন তাহলে বর্তমানে অনেক মিউচুয়াল ফান্ড আছে যারা FD থেকে অধিক রিটার্ন দিয়ে থাকে। তারা আপনার টাকাকে বিভিন্ন কোম্পানি গুলিতে ইনভেস্ট করে থাকে এর মধ্যে যে যে কোম্পানি গুলিতে মুনাফা হয় সেই শেয়ার গুলিকে বিক্রি করে। আপনাকে ধার্য করা রিটার্নের অংশ দেওয়া হবে বাকি টাকা কোম্পানি তার কাছে রেখে দেয়।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কয়টি ?

বাংলাদেশের দুইটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে যেমন :

  1. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ( DSE )
  2. চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ ( CSE )

শেয়ার মার্কেটের বাংলা বই

বাংলাতে লেখা শেয়ার মার্কেট সম্বন্ধে এই বই গুলি পড়ে ভালো একটা ইনভেস্টর হতে পারবেন। বই গুলির লিস্ট

  • রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড ( ইংরেজি বইয়ের কপি )
  • শেয়ার বাজারে কিভাবে লোকসান ভুলেধানবান হবেন
  • স্টক মার্কেটের সফল তার সূত্র
  • গোল্ডেন রুলস অফ ট্রেডিং

এই বইগুলি অডিও ইউটিউব থেকে ফ্রিতে শুনতে পারেন।

শেয়ার বাজার কে নিয়ন্ত্রণ করে

শেয়ার বাজার গুলির যে ভূখণ্ডের মধ্যে যতগুলি স্টক এক্সচেঞ্জ অবস্থিত সেই দেশের সরকারের বা গভর্মেন্ট আন্ডারে নিয়ন্ত্রিত হয়।

শেয়ার বাজার থেকে কিভাবে টাকা কামাবেন

প্রধানত শেয়ার বাজার থেকে দুটি উপায়ে টাকা উপার্জন করা যায় :

  1. INVEST ( ইনভেস্ট )
  2. TRADING ( ট্রেডিং )


1. কোন শেয়ার কে কিনে বহুদিন, তিন থেকে চার বছরের জন্য হোল্ড করে রেখে দেন তাকে ইনভেস্টমেন্ট বলা হবে । শেয়ারে বিনিয়োক করলে ঝুঁকি একটু কম থাকে, ভালো কোম্পানি গুলোতে ইনভেস্ট করেলে অল্প সময়ে জন্য আপ ডাউন হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘসময়ের গ্রাফটি দেখলে বুঝবেন কোম্পানিটি গ্রো হচ্ছে।

2. শেয়ার বাজারে ট্রেডিং দুই প্রকার হয়ে থাকে :

  • Intraday Trading
  • Future and Options Trading

কিছু কিছু শেয়ারে intraday trading চালু থাকে এটা এক্সচেঞ্জ এর উপর নির্ভর করে ইন্ট্রাডেতে শেয়ার কিনলে অনেক কম টাকায় শেয়ার পাবেন। কিন্তু একদিনের মধ্যে শেয়ার কে sell করতে হবে অথবা ৩:১৫ PM বাজলে অটোমেটিক সেল হয়ে যাবে।

অথবা, Nifty ও Bank Nifty এবং Sensex ট্রেডিং করে টাকা কামানো যায় এটি আপনার স্টক মার্কেটের অ্যাপ্লিকেশনে (F&O) বলে লেখা option দেখতে পাবেন। এটি আলাদা ভাবে চালু করতে হয়।
এর কাজ করার পদ্ধতি একটু আলাদা, পরের আর্টিকেল এর মাধ্যমে জানাবো।

শেয়ার বাজার শিখতে চাই

আমাদের আর্টিকেল এর মাধ্যমে শেয়ার বাজারের বিষয়ে অল্প কিছু হলেও জানতে পেরেছেন। শেয়ার বাজারের বিষয়ে গভীরে জানতে হলে আপনি বড় বড় ইনভেস্টরদের সঙ্গে যোগাযোক করতে পারেন অথবা কিছু কিছু জায়গায় শেয়ার বাজারের বিষয়ে কোচিং দেয়া হয় , ৫ থেকে ৬ মাসের কোর্স হয়ে থাকে, কোর্স ফি প্রায় ৫০০০ টাকা থেকে শুরু হয়, এই কোচিং গুলিতে ভর্তি হলে শেয়ার মার্কেট এর বিষয়ে ডিটেলসে শিখতে পারবেন।

যদি আপনার টাকা-পয়সা না থাকে তাহলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্রিতে ইউটিউব , গুগল ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন সময় একটু বেশি লাগতে পারে। কিছু ওয়েবসাইটের লিস্ট দিয়ে দিচ্ছি এইগুলি থেকে ফ্রিতে বিভিন্ন শেয়ারের বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টগুলি দেখে নিতে পারেন.

নতুনদের জন্য শেয়ার বাজার

আপনি যখন শেয়ার বাজার নিয়ে কোন ভিডিও দেখবেন বা আর্টিকেল পড়বেন তখন সব জায়গায় লেখা থাকে জেনেশুনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শেয়ার বাজার জানবো কিভাবে শেয়ার বাজার কি ভাবে শেখা যায় কোন নির্দিষ্ট উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না কারণ যত বড় অভিজ্ঞ কিংবা জ্ঞানী বিনিয়োগকারী হক না কেন, তারা প্রতিনিয়ত শেয়ার বাজার সম্পর্কে নতুন নতুন জিনিস শিখতে পছন্দ করে কেউ কোনদিন নিজেকে সর্বে সর্বমান্য মনে কররে না।

বিশ্বের যত বড় বিনিয়োগকারী হোক না কেন কোনদিনই শেয়ার বাজার থেকে লস হয়নি এইরকম মানুষ কে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এমন একটি পেশা যেখানে আপনাকে সবসময় আপডেট থাকতে হবে এই ক্ষেত্রে সমস্যা হয় তাদের যারা একদম নতুন যারা কখনোই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেনি আমাদের মনে রাখতে হবে আজকে যারা বিনিয়োগ কারী আছে শেয়ারবাজারের সফলতার সাথে ব্যবসা করছে। তারা একদিন আপনার আমার মতনই নতুন ছিল তবে তাদের জানার আগ্রহ থাকায় তাদের কে সফল করেছে । আসুন যারা একদম নতুন কিভাবে শেয়ার বাজার সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে তাই একটু জানার চেষ্টা করি


নাম্বার 1:- নিজে আগে একা একা শিখুন বর্তমান বিশ্বের যেকোনো তথ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় না আপনার হাতে ইন্টারনেট রয়েছে যেখানে আপনি শেয়ারবাজার বিষয়ে ভিডিও এবং আর্টিকেল পাবেন যত বেশি সম্ভব ততবেশি জানার এবং পড়ার চেষ্টা করুন। কিছুদিন এইভাবে লেগে থাকুন এরপরে যে বিষয়ে একদমই বুঝতে পারছেন না তা নোট করে রাখুন আপনি কিছুদিন পর সেই নোট করা বিষয়গুলোকে নিয়ে জানার চেষ্টা করুন আপনাকে মনে রাখতে হবে শেয়ার বাজার আর্থিক স্বাধীনতা বা ফাইনাল ফ্রিডম রিসিভ করার জন্য অন্যতম মোক্ষম হাতিয়ার যদি কাজে লাগানো যায় তাই আপনাকে অবশ্যই জানার আগ্রহ থাকতে হবে আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি প্রতিদিন যদি দুই এক ঘণ্টা সময় দেন তাহলে এক মাসের মধ্যে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে যাবে। যেমন শেয়ার বাজার কি ,কিভাবে শেয়ার বাজার কাজ করে ,কিভাবে ডিমান্ড একাউন্ট খুলতে হয়।
শেয়ার লেনদেন কিভাবে করতে হয় কতদিন শেয়ার কেনার পর বিক্রি করা যায় ইত্যাদি বেসিক ধারণা গুলো অর্জন করতে হবে.

নাম্বার ২ বিদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োক করার আগে কিছু কিছু ওয়েবসাইটটে প্র্যাকটিস করা যায় তার ফলে শেয়ার মার্কেট এর বিষয়ে ধারনা পেতে পারেন। ভারতের শেয়ার মার্কেটের প্র্যাকটিস করার জন্য কোন ওয়েবসাইট বর্তমানে নেই তাই আমাদের শেয়ারবাজার শেখার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম না থাকায় এর বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে।


যেমন :- আপনি মনে করুন ভার্চুয়াল ১ লক্ষ টাকা এক মাসের জন্য কোন একটি শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন তা ( paper trade ) খাতা-কলমে দাম গুলি আপনার খাতায় লিখে রাখুন কিছুদিন পরে দেখুন শেয়ারটির মূল্য কী ঘটেছে যে আপনার ধারণাটি ঠিক হয়েছে কিনা আপনি কিছু শিখতে পেরেছেন কিনা।

শেয়ার বাজার কী তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি

শেয়ার বাজারের ইতিহাস থেকে বর্তমানে নতুন বিষয় গুলিকে আলোচনা করেছি। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আপনার লসকানের ধারণ ক্ষমতা কত তত টাকায় শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করুন। কারোর কাছে ধার অথবা লোন নিয়ে ইনভেস্ট করবেন না।

শেয়ার বাজারের বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান গুলিকে আগে ভালো করে জেনে নিন এবং যতদিন না শেয়ারবাজারে ইনভেস্ট করছেন, তত দিন শিখতে অসুবিধা হবে।

প্রথমে কিছু টাকা হলেও ইনভেস্ট করুন ধীরে ধীরে সব শিখে যাবেন।শেয়ার বাজারের বিষয়ে এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে A to Z প্রায় সমস্ত তথ্য আলোচনা করেছি , যদি তোমাদের কোনো অসুবিধা হয় কমেন্ট করে জানাতে পারো। ~ধন্যাবাদ.

Leave a Comment